64 / 100

একটা সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে? সবথেকে সেরা সম্পর্কটাও কি ভেঙ্গে যেতে পারে না? মানব মস্তিষ্ক পৃথিবীর সবথেকে অদ্ভুত যন্ত্র। কখন কীভাবে এটা কাজ করবে সেটা অনুমান করা আরেকজন মানুষের পক্ষে আসলেই অসম্ভব। এজন্যই সম্ভবত ইয়োহান আর মারিয়ান কখনো একে অপরকে ছাড়তে পারে না। সিনেমার শুরুতে ১০ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের একটা পারফেক্ট জীবন তাদের। কিন্তু তারা কি আসলেই খুশি? সচ্ছল জীবন আর দুই সন্তান এর জীবনে সুখ তাদের জন্য একটা মায়া। দীর্ঘক্ষণ একসাথে থাকলে ঠিকই এক সময় সবকিছু বিষিয়ে যায়। খুন করে ফেলতে ইচ্ছে হয় একে অপরকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় দূরে থাকলে আবার কিছু একটা তাদেরকে কাছে টেনে আনে। এর কারণ কী? যৌনতা? না, শুধু সেটা হলে হয়তো এরকমটা সম্ভব ছিল না। কিন্তু কী এমন আছে যা তাদেরকে বারবার দূরে সরিয়ে দেয় আবার বারবার নিয়ে আসে একে অপরের কাছে? তাদের সম্পর্কটা ভেঙ্গে যায় হয়তো একদম শুরুতেই। কিন্তু বাকি সিনেমা জুড়ে পুরোটাই তাদের সম্পর্কের গল্প। যা থেকেও আছে, না থেকেও নেই।

Scenes From A Marriage
Scenes From A Marriage

সুইডিশ কিংবদন্তী ইংমার বার্গম্যান এই বিষয়টি নিয়েই গবেষণা করেছেন Scenes From A Marriage এ। মারিয়ান চরিত্রে অভিনয় করা লিভ উলম্যানের সাথে বাস্তব জীবনের কঠিন সম্পর্ক উঠে এসেছে তার চিত্রে। উলম্যানের সাথে আরল্যান্ড ইয়োসেফসনের (ইয়োহান) পর্দার রসায়ন প্রতি মুহূর্তে ভুলিয়ে দেয় যে এটা একটা ফিকশন বরং একটা নন ফিকশন ভাবতেই বেশি ভালো লাগে।

Scenes From A Marriage 3

সিনেমাটোগ্রাফার সভেন নিকভিস্ট এর বারংবার ক্লোজ আপ শটগুলোও সেই ধারণাটাকেই উসকে দেয়। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে পর্দায় শুধু Johann আর Marianne, অদরকারি কিছু নেই। বার্গম্যানের মিনিমালিস্ট স্টাইল পুরো গল্পটাকে করে তোলে মোহনীয়। আমিও শেষ না করে কিছুতেই উঠতে পারি না। মনে হয় যেন একটা কবিতা পড়ে চলেছি। থামার কোনো উপায় নেই। আর প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চলা একটা রোমান্টিক সিনেমায় কোনো বিজিএম থাকবে না এটা এই যুগের অনেকেই শুনলে আঁতকে উঠতে পারে। তবে এটা Scenes from a Marriage কে করে আরো বাস্তব, আরো অনেকটা ইনটেন্স।

Scenes From A Marriage 2

Scenes From A Marriage কি আমার দেখা সেরা রোমান্টিক সিনেমা? হতে পারে। নাও হতে পারে। হালের ম্যারেজ স্টোরি এবং উডি অ্যালেনের ক্যারিয়ারও Scenes From A Marriage দ্বারা খুব ভালোভাবেই অনুপ্রাণিত। ক্লাসিক সিনেফাইলরা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যেই দেখে ফেলেছেন। রোমান্টিক এবং ড্রামা মুভি ভক্তদের জন্যও মাস্ট ওয়াচ।

দীর্ঘদিন ধরে আমি শুনে এসেছি বার্গম্যানের নাম কিন্তু তার কোনো সিনেমাই দেখার সুযোগ হয়নি। সিন্স ফ্রম আ ম্যারেজ দিয়ে আমার সেই খরা কাটলো। মাঝেমধ্যেই মনে হয় কত অসংখ্য সিনেমা দেখা বাকি। কত অসংখ্য ভাষায় কত অগণিত মাস্টারপিস এখনো দেখা বাকি থেকে গেছে। অপেক্ষায় রইলাম এরকম রত্নগুলোর জন্য।