77 / 100

ফেসবুকের এক মুভির গ্রুপে ব্যাপক পজিটিভ রিভিউ দেখে মুথুন সিনেমায় আগ্রহ তৈরি হলো। কালকে রাতে অনলাইনে আসছে শুনে দ্রুত ডাউনলোড দিলাম। মালায়ালাম সিনেমা তার উপর অনুরাগ কাশ্যপ জড়িত!

কলিউডের চকলেট বয় নিভিন পৌলির যে লুক দেখেছিলাম পোষ্টারে, তাতে ভাল রকমের নড়েচড়ে বসার মতো অবস্থা। মূলধারার মালায়ালাম ফিল গুড সিনেমা না এইটা। ডার্ক থ্রিলার ঘরানার হতে যাচ্ছে মনে হলো। হলোও তাই। কিন্তু প্রত্যাশাকে এমনভাবে ছাপিয়ে গেল যে থ হয়ে বসে থাকার মতো অবস্থা।

সমাজে পুরুষ নারী ছাড়াও আরো একাধিক লিঙ্গের এবং যৌন প্রবণতার মানুষ আছে। আমাদের চারপাশে তাকালেই সেটা বোঝা যায়। প্রচলিত নারী-পুরুষ দ্বৈরথের মধ্যে তাদের জায়গা কতটুকু? তাদেরকে সমাজ কী চোখে দেখে? তাদেরকে কোথায় ঠেলে দেওয়া হয়? এইসব প্রশ্নগুলো হয়তো জাগবে বা হয়তো জাগবে না।

moothon Malayalam Crime Drama movie review
নিভিন পৌলির মুথুন সিনেমা

সবকিছু বাদ দিয়েও মুম্বাইয়ের কোনো এক ঈশ্বর পরিত্যক্ত গলির ন্যাক্কারজনক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে একটা মানবিক গল্প শোনার জন্য হলেও এই সিনেমাটা দেখা যায়।সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন রাজিব রবি। তিনি নিজেও একাধিক ভালো মানের সিনেমার পরিচালক।

দক্ষিণ ভারতের এই অদ্ভুত সিনেমা কারখানায় দেখলাম এখানে কোনো মহাতারকা কোনো সিনেমার ছোটখাটো এমনকি খল ভূমিকায় অভিনয় করলেও তার অহং এবং তারকাখ্যাতিতে একটু আঁচড়ও লাগে না।একজন স্বনামধন্য পরিচালক হয়তো কোনো একটা সিনেমার ফটোগ্রাফির ডিরেক্টর কিংবা স্ক্রিপ্ট রাইটার।

এদের বেশ কিছু সিনেমায় প্রায়শই তারকার হাট বসে। সাধারণত কোনো একজন অভিনেতাকে তথাকথিত ‘নায়ক’ হয়ে উঠতে দেখা যায় না। কারণ এখানে সবাই জানে গল্পের চেয়ে বড় কোনো নায়ক নাই। সংলাপের চেয়ে বড় কোনো চমক নাই। অথচ সিনেমা শিল্প চলে সরাসরি দর্শকের পকেটের টাকায়। তাদেরকে কিভাবে উপমহাদেশের গতানুগতিক তারকানির্ভর সিনেমা ধারার বাইরে আনা গেল? এত রুচিশীল শিক্ষিত দর্শক পয়দা হলো কিভাবে?

যাইহোক, নির্মাণ নিয়ে আলাদা করে বলতে হয়। গল্পের ভেতরে ডুবিয়ে দেওয়ার মতো নির্মাণ। আগে কখনো এই পরিচালক মহিলা গীতু মোহনদাসের কোনো সিনেমা দেখেছি কিনা মনে পড়ছে না। না দেখলে দেখা লাগবে।গল্পের এত সাবধানী গতি, এত অন্তরঙ্গভাবে ফুটিয়ে তোলা! চরিত্রগুলোকে সময় দিয়েছেন।

মালায়ালাম সিনেমা শিল্প সাধারণত বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে একটু কম ঘাটাঘাটি করে। সেক্ষেত্রে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের গল্প বলা, তাদের বিশেষ সম্পর্কগুলোকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা একটা সাহসী পদক্ষেপ।এই ধরণের একাধিক সিনেমায় দেখা গেছে সেগুলো শেষ পর্যন্ত বক্তব্যনির্ভর হয়ে যায়। তাতে সিনেমার সৌন্দর্য চাপা পড়ে যায়। গল্প আড়ালে চলে যেয়ে প্রচার সামনে চলে আসে। কিন্তু সেটা তো পরিচালকের কাজ না। তার কাজ হলো আলো দিয়ে গল্প লিখে যাওয়া।এই সিনেমা এইদিক দিয়ে ভালভাবে উৎরে গেছে।

মনে রাখার মতো বেশ কিছু উপাদান আছে সিনেমায়। আবহসঙ্গীতের কথা আলাদাভাবে মনে পড়ছে। মালায়ালাম গতানুগতিক সুস্বাদু সিনেমায় সুন্দর সুন্দর গান থাকে। মুথুন যেহেতু সে সব থেকে আলাদা, অতএব ওইসবের ঝামেলার মধ্যে যায় নি। আসল কথা সিনেমার সাথে লাগসই না এমন সবকিছুই বাদ দেওয়া হয়েছে। ড্রামা হলেও আবেগের ছড়াছড়ি নাই। পরিমিতি আবেগ আছে। বলিউডি মেলোড্রামার অনেক দূর দিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে দর্শক হিসেবে যেমনটা দেখতে চাই, তেমনই।

আরও পড়ুন: এক রিয়েল প্রেমিকার কাহিনী

লেখক: জাকির হোসেন, চলচ্চিত্র সমালোচক