হাতে গোনা কয়েকটি ছবির নায়িকা হয়েও আলোচিত ছিলেন সুলতানা জামান। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন রোমান্টিক নায়িকা। নায়িকা হিসেবে তিনি ১৮ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

এক সাক্ষাৎকার এ সুলতানা জামান বলেন, ” পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে মহিউদ্দিন সাহেব ” মাটির পাহাড়” ছবির জন্য নায়িকা খুঁজছিলেন। ঢাকার প্রথম ছবি “মুখ ও মুখোশ” রিলিজ হবার সময়ে কন্ঠশিল্পী লায়লা আরজুমান্দ বানুই তার কাছে আমার কথা বলেন। আমার কাছে প্রস্তাবটা নিয়ে আসেন চিত্রালীর সম্পাদক পারভেজ সাহেব। তাকে ” না” বলেছিলাম। পারভেজ সাহেব ও মহিউদ্দিন সাহেব পিছু ছাড়লেন না। ছবিতে ক্যামেরাম্যান হিসেবে আপনার স্বামী জামান সাহেব থাকবেন, কোনো অসুবিধা হবেনা। পরে রাজি হয়ে “মাটির পাহাড় ” ছবিতে নায়ক ইকবালের বিপরীতে অভিনয় করলাম।”

নায়িকা সুলতানা জামানের আরেক নাম ছিলো রাজিয়া। নায়িকা হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য ছবি হলো- চান্দা, জোয়ার এলো, জানাজানি, সাতরং, উজালা, ময়ূরপঙ্খী, মালা, ভানুমতী ইত্যাদি। সত্তরের দশকে সুলতানা জামান “অগ্নিশিখা, নিশান” আর ” যাদুর বাঁশি” তে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। শেষ বয়সে তিনি থাকতেন গুলশান লেকের কাছে এক মনোরম বাড়িতে। ৯০ ও তার পরবর্তী সময়ের ছবি নিয়ে তিনি বলেন, ” এখনের ছবিতে কারিগরি দিক দিয়ে ছবির মান ভালো তবে মজবুত গল্পের অভাব। এখনকার নায়িকারা যথেষ্ট ভাল অভিনয় করেন।”

সুলতানা জামানের চেহারায় এক ধরনের আভিজাত্য ছিলো। তিনি লাক্সের স্থিরচিত্রের মডেল হন। তিনিই প্রথম আজীবন সম্মাননা প্রাপ্ত হন ২০০৯ সালে।
২০১২ সালের ২০ মে প্রয়াত হন তিনি।