১৯৪৭ সালে ব্যাংকার অ্যান্ডি ডুফ্রেন্স তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন (২ বার) কারাদণ্ডের শাস্তি হয়। ক্রমাগত অভিযোগ অস্বীকার করে গেলেও তাকে পাঠানো হয় কুখ্যাত শশাঙ্ক কারাগারে। শশাঙ্কের কারাগারে এসে অ্যান্ডি জীবনের অন্য রূপগুলো দেখতে পায়। সে রূপ কদর্য, কঠিন আর অন্যায্য। আবার সে সেখানে খুজে পায় বন্ধুত্ব, খুব সম্ভবত তার জীবনের প্রথম প্রকৃত বন্ধুত্ব। শশাঙ্কের কারাগারে আটকে জীবন শেষ করে দেয়ার কোনো ইচ্ছা অ্যান্ডির ছিলো না। তাই অ্যান্ডি শুরু করে টানেল খোড়া। ১৯ বছর ধরে একটু একটু করে টানেল খুড়ে অবশেষে সে যখন মুক্ত বাতাসে বৃষ্টিতে দুহাত মেলে দাড়িয়ে থাকে তখন দর্শক হয়ে যায় মোহাচ্ছন্ন। শশাঙ্ক রিডেম্পশন সারা পৃথিবীর চলচিত্র প্রেমীদের মাঝে হয়ে আছে মুক্তি, স্বাধীনতা আর ধৈর্য্যের প্রতীক হিসেবে।

মুক্তির পর শশাঙ্ক রিডেম্পশন খুব একটা আলোড়ন তুলতে পারেনি। না বক্স অফিসে না এওয়ার্ড শো গুলোতে। কিন্তু সময়ের সাথে শশাঙ্ক পরিণত হয়েছে অত্যন্ত দর্শকপ্রিয় এক মুভিতে। বিরাট বড় বড় সব নাম টপকে হয়ে গেছে IMDB top 250  list এর ১ নাম্বার মুভি। ঠিক কী কারণে? মুক্তির সময়ে যা ছিলো above avarage একটা মুভি তা বছর বিশেক পর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুভির প্রতিযোগিতায় সামনের দিকে চলে আসে কিভাবে?

শশাঙ্কের কারাগারে অ্যান্ডি ১৯ বছর ছিলো। এই ১৯ বছর তার লক্ষ্য ছিলো এই কারাগার থেকে বের হওয়া। একারণেই তার এতো প্রচেষ্টা এতো শ্রম। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অ্যান্ডি কিন্তু তার এই জেল পালানোর লক্ষ্যের ভিতর ডুবে যায় নি।জেলখানার জীবন টা সুখকর না। নিরপরাধ একজন মানুষের জন্য শশাঙ্কের মতো নির্দয়  জায়গা বোধহয় আর হয় না। কিন্তু তাই বলে অ্যান্ডি সে জীবনটাকে অস্বীকার করে নি। সে কয়েদখানায় বন্ধু বানিয়েছে। বন্ধুদের সাথে সুন্দর সময় কাটিয়েছে। বন্ধুদের জন্য বন্ধুদের সাথে  কাজ করেছে। জেলখানায় লাইব্রেরী বানানোর জন্য সে টানা ৬ বছর চিঠি লিখে গেছে। আর এসব করেও সে তার আসল লক্ষ্যে অটুট ছিলো পুরোটা সময়। এককথায় He was busy living. শশাঙ্কের কারাগারে এসে অ্যান্ডি তার জীবনের প্রথম অংশের ভুল বুঝতে পারে।  সে বুঝতে পারে জীবনে সব ভুলো লক্ষ্যের পিছনে ছুটে তা অর্জন করা গেলেও পিছনে ফিরে শুণ্যতা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।

মানুষের জীবনটাও এরকম। সবারই জীবনে লক্ষ্য বা Destination  থাকে। বেশিরভাগ মানুষ এই Destination এর কথা চিন্তা করতে যেয়ে  Journey টার কথাই ভুলে যায়। অথচ লক্ষ্য অর্জন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন লক্ষ্য অর্জনের পথটাও গুরুত্বপূর্ণ।  প্রথম জীবনে সব ভুলে লক্ষ্যের পেছনে ছোটা অ্যান্ডি শশাঙ্ক এ এসে আর সে ভুল করেনি। কারাগারের জীবনের ভয়ংকর দিক গুলো যেমন সে সাফার করেছে তেমনই ভালো দিকগুলো সে উপভোগ করেছে।এটাই তার জীবনের রিডেম্পশন বা শাপমোচন ।  আর এভাবেই ১৯ বছর ধরে একটু একটু করে সে তার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছে। আর তাই গন্তব্যে পৌছানোর পরও সে পিছনে ফিরে পেয়েছে Red এর মতো অকৃত্রিম বন্ধুকে আর একগাদা ভালো স্মৃতিকে।

শশাঙ্ক রিডেম্পশন নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। শশাঙ্ক কি ওভাররেটেড? শশাঙ্ক কি আসলেই এতো প্রশংসার যোগ্য? আশ্চর্য সাধারণ গল্পের মাঝে জীবন সম্পর্কে যতরকম শিক্ষা লুকিয়ে আছে তা দেখে আমার কাছে একটা জিনিস পরিষ্কার তা হলো শশাঙ্ক রিডেম্পশন আর যাই হোক ওভাররেটেড না।