দ্য লাস্ট ঠাকুর সিনেমার গল্পটাকে থ্রিলার কিংবা রিভেঞ্জ ড্রামা যেকোন জন্রাতেই ফেলা যেতে পারে। সিনেমার নির্মানটা কিছুটা ওয়েস্টার্ন ঘরানার। একদিন ভোরবেলায় দৌলতপুর নামের এক জায়গায় এক তরুন ছেলে এসে হাজির হয়। তার গায়ে চাদর, রহস্যজনক আচরণ, তার হাতে একটা থ্রি নট থ্রি রাইফেল। তার সাথে একটা জন্মসনদ, সেখানে তার মায়ের নাম লেখা মনোয়ারা, বাবার নাম মুছে গেছে। আছে শুধু দুটো শব্দের প্রথমাক্ষর, অ এবং র। দৌলতপুর এলাকায় তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব। একদিকে আছে মুসলিম রাজনীতিবিদ এলাকার বর্তমান চেয়ারম্যান, অন্যদিকে আছে ভূমিখেকো হিন্দু এক ঠাকুর। আর আছে সাইফুর রহমান। মূল দ্বন্দ্বটা ঠাকুর আর চেয়ারম্যানের মধ্যে, সাইফুর রহমান সুবিধাবাদী। তার কাজ অস্ত্রের যোগান দেয়া। বন্দুক হাতে নিয়ে যে যুবকটি ত্রিশ বছর আগের মনোয়ারা নামের একটি মহিলা সম্পর্কে খোজ করছে সে কোন পক্ষের হয়ে কাজ করছে? কি তার পরিচয়, সে কি খুঁজে পাবে তার বাবা, মা-কে খুঁজে পাবে? সে কি প্রতিশোধ নিতে পারবে? এরকমই কতগুলো প্রশ্ন নিয়ে দ্য লাস্ট ঠাকুর সিনেমা।

আমার কাছে মনে হইছে, দ্যা লাস্ট ঠাকুর, বিখ্যাত পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়ার Yojimbu সিনেমা থেকে ইন্সপায়ারড একটা গল্প।

সিনেমার সবচে ভালো লাগার দিক হলো, কথকের ভিন্নতা। একটা চায়ের দোকানের কাজ করে এমন একটা ছেলে এই সিনেমার কথক। সে তাঁর বুদ্ধি, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যাপারগুলারে ব্যাখ্যা করতেছে। এইটা খুবই অদ্ভূত আর অসাধারণ লাগছে আমার কাছে। আমি কোন সিনেমার এই ব্যাপার‍টা পাই নাই।

সিনেমার দ্বিতীয় ভালো লাগার দিক হলো সিনেমার গল্পটা মাত্র ১২-১৩ ঘন্টার। এলাকার চেয়ারম্যান নির্বাচনের পরের দিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঘটে ঘটনার একটা ধারাবিবরণী, পরিচালক ৮০ মিনিটের ফ্রেমে বন্ধি করেছেন । যেকারণে সিনেমা বোরড হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

তৃতীয় ভালো লাগার দিক হলো তারিক আনাম খান, আহমেদ রুবেল, গাজী রাকায়েত এবং জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের চোখে লেগে থাকার মতো সুন্দর অভিনয়।

চতুর্থত ভালো লাগা দিক সিনেমার অসাধারণ মিউজিক৷ যা সিনেমাটাকে এনে দিয়েছি দুর্দান্ত একটা আবহ। সাউথ এশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের বেস্ট মিউজিকের এওয়ার্ডটাও তাদের ঝুলিতে।

সিনেমার নেগেটিভ দিক আমার কাছে মনে হইছে গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা। গল্প বা চরিত্রায়নটা খুব একটা বাস্তবিক লাগে নাই আমার কাছে৷ আরো একটা খারাপ দিক রহস্যময় কালার চরিত্রে অভিনয় করা ব্যক্তির আনাড়ি অভিনয়। কোন আকর্ষণ নেই তার অভিনিয়ে।

সাদিক আহমেদ পরিচালিত দ্যা লাস্ট ঠাকুর সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০৮ সালে। সিনেমার রানটাইম ৮১ মিনিট৷ আইএমডিবি রেটিং – ৬.৩/১০। ব্যক্তিগত রেটিং – ৭/১০।