80 / 100

১৯৭৭ বা ১৯৭৮এর দিকের কথা। উপমহাদেশের বিখ্যাত কিন্নরকন্ঠী রুনা লায়লার হাতে একটা চিঠি এসে পৌছালো। চিঠিটা লিখেছেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ, চিঠির ভাষাটা অনেকটা এরকম,

“শ্রীনগরে একটা হাসপাতালের জন্য তহবিল গঠন করতে চাই। আপনি একটা গানের অনুষ্ঠান করে দেবেন? আপনার যা পারিশ্রমিক, তা আমাকে জানিয়ে দেবেন—আমি সেভাবে আয়োজন করব ।”

রুনা লায়লা তখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে, পাকিস্তানের এক ভূমিধ্বস জনপ্রিয়তা পেছনে ফেলে বাংলাদেশে এসে জাকিয়ে বসেছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা “স্বাধীনতা পুরষ্কার”এর প্রথম বছরের সম্মানিতের তালিকাতেও ছিলেন এই গায়িকা। সে বছরেরই কথা সেটা। রুনা জানতেন কাশ্মীরীদের স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা। ভালো একটা হাসপাতালও ছিল না সেখানে, চিকিৎসার জন্য তাদের ছুটতে হত চন্ডিগড় কিংবা দিল্লীতে। তো চিঠির উত্তরে কি লিখলেন রুনা?

“আপনি এত বড় একজন মানুষ হয়ে আমাকে আমন্ত্রণ করেছেন এত ভালো একটা কাজের জন্য, এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। আমি কোনো পারিশ্রমিক নেব না। কোনো পেমেন্টের প্রশ্নই আসে না। আমি আসব আর বেড়িয়ে যাব—আপনার হাসপাতালের জন্য অনুষ্ঠানে গান করব।” চিঠির এই উত্তরে আবেগাপ্লুত আব্দুল্লাহ লিখলেন, “এখানকার অনেক শিল্পীকে আমি বলেছি, কেউ পারিশ্রমিক ছাড়া অনুষ্ঠান করতে রাজি হননি। আপনি অন্য দেশের শিল্পী হয়ে আমার দেশের মানুষের জন্য তহবিল গঠনে গান করতে রাজি হয়েছেন—বিনা পারিশ্রমিকে গান করবেন। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ আপনার কাছে।”

রুনা লায়লা গেলেন কাশ্মীরে, তাকে লাল গালিচায় বরণ করে নিল কাশ্মীর। দুদিনের অনুষ্ঠান, রুনাকে কেই বা না চেনে? ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ, হিন্দি-উর্দু-বাংলা কোন ভাষাতেই রুনা মঞ্চ কাপাননি? দুদিনের অনুষ্ঠানে কাশ্মীর যেন ভেঙ্গে এলো রুনার মঞ্চে, যথারীতি মাত করলেন রুনা, উঠে এলো হাসপাতালের অর্থের বড় অংক! কাশ্মীরের সেই হাসপাতালে বড় বড় করে উৎকীর্ণ করে লেখা আছে, “Donated by Runa Laila”.

কলকাতায় কাশ্মীরী শাল বিক্রি করে এমন অনেকেই রুনাকে দেখলে বলে উঠেন, “আপনাকে আমরা অনেক দোয়া দিই।” অবাক রুনা লায়লা প্রশ্ন করতেই তারা উত্তর দেন “আপনি যে আমাদের জন্য হাসপাতাল করে দিয়েছেন। আপনার নামটা সেই হাসপাতালে লেখা আছে। আমরা যখনই সেখানে যাই, খুব দোয়া দিই।”

এমন অনেক ভালোবাসার গল্পে রুনা লায়লার জীবন পরিপূর্ণ! ভালো থাকুন হে বাংলাদেশের গর্ব! বেঁচে থাকুন অনেকদিন!

উপভোগ করুন রুনা লায়লার একটি জনপ্রিয় গান মাস্ত কালান্দার।

মাস্ত কালান্দার

আরও পড়ুন: চার সতীনের ঘর নারী নির্মাতা নারগিস আক্তারের সিনেমা।

কার্টেসিঃ তাশরিক হাসান!