অভিনেতাঃ সিয়াম আহমেদ, পূজা চেরি,ফজলুর রহমান বাবু, সাইদ বাবু, নাদের চৌধুরি,আনোয়ারা,
পরিচালকঃ রায়হান রাফি
সময়সীমাঃ ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট

আমাদের গ্রাম বাংলার চিরায়ত সত্য, সরল, সুন্দর একটি নির্মল প্রেমের গল্প “পোড়ামন ২”। নান্দনিক কোন প্রকাশ ভঙ্গি নেই এ ছবিতে। আছে বেদনা বিধুর দুটি প্রাণের সঞ্চার। মৃত্যুকে উপেক্ষা করে অর্থ-বিত্ত, প্রাচুর্য যখন জীবনে প্রয়োজন হয় না,যুগ যুগ ধরে প্রেম এখানে মুখ্য। তবে প্রেমের ব্যাখ্যায় বিচ্ছেদই যখন জয়ী হয় তখন নীল কষ্টে পুরো গ্রাম ছেয়ে যায়। পরিচালক ছবিটিতে এমন ঘটনা দেখিয়েছেন তা সত্যি শরীর ও মনে পোড়া গন্ধ হয়।

মুভি রিভিউঃ এই ঈদে রিলিজ পেল পোড়ামন ২। সিনেমার শুরুতেই বিচ্ছেদের সুর। জেসমিনের বাবা কফিলের(ফজলুর রহমান বাবু) হাহাকার দিয়ে শুরু হয় সিনেমাটি । প্রেমে ব্যর্থ হওয়া জেসমিনের লাল সারি পড়া গাছে ঝুলন্ত লাশ সিনেমার শুরুতেই একটা কষ্টের ইঙ্গিত দেয়।

এরপর দশ বছর কেটে যায়। আমরা দেখতে পাই সিনেমা পাগল এক তরুণ যিনি প্রয়াত সালমান শাহের অন্ধ ভক্ত সুজন শাহ কে (সিয়াম আহমেদ)। তালুকদার বাড়ির মেয়ে পরী (পূজা চেরি) সুজন কে ভালোবাসে কিন্তু কোন পাত্তাই পায় না সুজনের কাছে। গ্রামের সবুজ মাঠ- ঘাট, ধান খেত, পুকুর,মক্তবে একসাথে পড়া, খেলাধুলার মধ্যেই বেড়ে ওঠে তাদের দুরন্ত দুটি মন। এভাবেই এগিয়ে যায় সিনেমার গল্প।

সুজন এক সময় পরীর ডাকে সাড়া দেয়। কিন্ত বাধ সাধেন তালুকদার সাহেব (নাদের চৌধুরি) ও তাঁর ছেলে মকসেদ (সাইদ বাবু)। কারন এক কামলার (বাপ্পারাজ) ভাই সুজন। প্রেমের পরিণতি জেনেই তারা দুজন পালিয়ে যাবার সময় ধরা পড়ে। পরিচালক এখানেই একটি নির্মম সত্য তুলে ধরেন।

ছবির পজিটিভ সাইড বলতে গেলে প্রথমেই আসবে বাণিজ্যিক মুভির ফ্রেমে ফ্রেমে শৈল্পিক সৌন্দর্য্য!মনেই হয় রায়হান রাফি প্রথমবারের মত সিনেমা পরিচালনা করেছেন । প্ৰশংসনীয় ছিল সিয়ামের অভিনয় । সিয়াম পরীর কেমিস্ট্রি দর্শক খুব পছন্দ করেছে। ক্যামেরার কাজ, স্পেশালি ড্রোন শট বেশ ভালো ছিল । আর এ মুভির গানগুলো ছিল অসাধারন।