64 / 100

তলবার সিনেমা প্রয়াত ইরফান খানের একটি অনবদ্য মুভি। মুভিটি মূলত একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ২০০৮ সালে ভারতের নয়ডায় ১৩ বছর বয়সী আরুশি তালওয়ার নিজের রুমে খুন হয়। এই হত্যাকাণ্ড নয়ডা ডাবল মার্ডার কেস নামে বিখ্যাত। কারন পরদিন অন্যতম অভিযুক্ত আসামী বাড়ির কাজের লোক হেম্রাজ এর লাশ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায়।

খান 1

প্লটঃ শ্রুতি ট্যান্ডন কে নিজের রুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ তদন্তে আসে। অভিযুক্ত হিসেবে তারা বাড়ির কয়েকজন কাজের লোক আর পিতা মাতা কে মনে করে। পরদিন নিখোঁজ কাজের লোক খেম্পাল এর লাশ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায়। তদন্তে পুলিশ, আর সি বি আই পাল্টাপাল্টি তদন্ত রিপোর্ট দেয়। পরবর্তীতে সিবি আই এর আরেক গ্রুপ এসে আবার তদন্ত করে। ৩ গ্রুপ এক সাথে মিটিং করে ও কোন কুল কিনারা পায় নি। পড়ে আদালত বাধ্য হয় রায় দিতে। অভিযুক্ত এক গ্রুপকে মিডিয়া ও তদন্ত কারি সংস্থা অভিযুক্ত করে। আরেকদল মিডিয়া আর তদন্ত কারি সংস্থা অন্য গ্রুপ কে অভিযুক্ত করে। আদালত কি রায় দেয় আর তদন্তে দোষী কারা এবং কেন জানতে হলে মুভিটি দেখতে হবে। পৃথিবীতে এমন কিছু খুন হয়েছে যার কোন সুরাহা কোন গোয়েন্দা সংস্থা করতে পারে নি। এটাও এমন। সিবিআই এর ২ গ্রুপ আর পুলিশ একসাথে বসে যে যার নিজের যুক্তি উপস্থাপন করে, যুক্তি গুলা সঠিক, আবার অন্য গ্রুপ যখন পালটা যুক্তি দেয় সেগুলাও সঠিক। ২ ঘন্টা ১২ মিনিটের মুভি আপনাকে নিজের ব্রেন চালাতে বাধ্য করবে। আপনি নিজেই ভাববেন পুলিশ এর যুক্তি তো সঠিক, কিন্তু সিবিআই এর যুক্তি শুনে আবার আপনার মাথা ঘুরে যাবে। মনে হবে সিবিআই ই সঠিক। সিবি আই এর ২য় গ্রুপের তদন্তে মনে হবে এরাও সঠিক। আবার এক পক্ষ যখন অন্য পক্ষের যুক্তি খণ্ডন করবে আপনার মনে হবে ওটাও সঠিক। ১২ বছর ধরে নয়ডা ডাবল মার্ডার কেস এখনও অমিমাংসিত আছে। আদালত এক পক্ষ কে শাস্তি দিছে। যদিও তদন্ত এখনও চলে। একদল মিডিয়া এখনও সোচ্চার।